প্রধান বিচারপতি হলেন হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী

0

দেশের ২৩তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে বৃহস্পতিবার তাকে এ পদে নিয়োগ দেন। আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ৪টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি তাকে শপথ পড়াবেন।

৬৭ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ায় বৃহস্পতিবার অবসরে যান প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। তার স্থলাভিষিক্ত হলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর অবসরে যাবেন তিনি।

এদিকে, নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতি নিয়োগের পর আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী ছুটিতে গেছেন। চাকরিবিধি অনুযায়ী ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর তার অবসরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী কতদিনের জন্য ছুটি চেয়েছেন, তা জানা যায়নি। সুপ্রিম কোর্ট সূত্র শুধু তার ছুটিতে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। অবশ্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি নিয়োগের এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির। এখানে আইন লঙ্ঘন ও জ্যেষ্ঠতার কোনো বিষয় নেই।

জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন (সুপারসিড) করে উচ্চ আদালতে বিচারপতি নিয়োগ নতুন কিছু নয়। সংবিধানই রাষ্ট্রপতিকে সুপারসিড করে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের ক্ষমতা দিয়েছে। গত এক দশকে আপিল বিভাগে বিচারপতি নিয়োগে সুপারসিডের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ২০১১ সালে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হলে আপিল বিভাগের দুই বিচারপতি ছুটিতে যান। তারা হলেন- বিচারপতি মো. আব্দুল মতিন ও বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মোমিনুর রহমান। এমনকি রাষ্ট্রপতি বিচারপতি নিয়োগ দেওয়ার পরেও প্রধান বিচারপতি তাদের শপথ পড়াননি, এমন ঘটনাও ঘটেছে। বিচারপতি রুহুল কুদ্দুস বাবু ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামানকে নিয়োগ দেওয়ার পর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম তাদের শপথ পড়াননি। পরে তিনি অবসরে যাওয়ার পর পরবর্তী প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ওই দুই বিচারপতিকে শপথ পাঠ করান। একইভাবে বিদায়ী প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ দেওয়া হলে বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌ হাব মিয়া পদত্যাগ করেন।

বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ১৯৫৬ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার রমানাথপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ৯ ভাইবোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। ১৯৭২ সালে খোকসা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন তিনি। ১৯৭৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক এবং ১৯৭৬ সালে স্নাতক পাস করেন। এর পর তিনি ১৯৭৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ পাস করেন। তিনি ধানমন্ডি ল কলেজ থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৮১ সালে ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে যোগদান করেন হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। ১৯৮৩ সালে হাইকোর্ট বিভাগের এবং ১৯৯৯ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০১ সালে হাইকোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। এর পর বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাকে হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়। পরে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে ২০০৯ সালের ২৫ মার্চ হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এর পর ২০১৩ সালের মার্চ মাসে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল তাকে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। সর্বশেষ গত বছর ৩ মে জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান পদে পুনর্নিয়োগ পান তিনি।

Leave A Reply

Your email address will not be published.