অনুপ্রবেশকারীরা ‘রামরাজত্ব’ করছে, ত্যাগী কর্মীরা দ্বারে দ্বারে ঘুরছে: যুবলীগ চেয়ারম্যান

0

দলের মধ্যে অনুপ্রবেশকারাীরা ‘রামরাজত্ব’ করছেন বলে মন্তব্য করেছেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস। তিনি বলেছেন, দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা-কর্মীরা দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে বরগুনা জেলা যুবলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। বরগুনা টাউন হল মাঠে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
শেখ ফজলে শামস বলেছেন, ‘বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতা–কর্মীরা আমাদের দলে ঢুকে পুনর্বাসিত হচ্ছে। এতে আমাদের দলের চরম ক্ষতি সাধন করছে, এটা স্বাধীনতাবিরোধী চক্র জামায়াত-শিবির ও বিএনপির পরিকল্পিত নীলনকশা।’

যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেছেন, ‘দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমাদের দল ১২ বছর রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে থাকার পরও দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে ত্যাগী নেতা–কর্মীরা। অথবা মনের দুঃখে ঘরের মধ্যে বন্দী হয়ে রয়েছে। মিথ্যা মামলায় আর এদের দীর্ঘশ্বাসে যুবলীগ ধ্বংস হয়ে যাবে। আমাদের উচিত এদের সম্মান দেওয়া। এদের মূল্যায়ন করা। দলের মধ্যে ভুঁইফোড় অনুপ্রবেশকারীরা রামরাজত্ব করছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না। এদের বিরুদ্ধে বর্তমান যুবলীগের নেতা–কর্মীদের সজাগ থাকতে হবে।’
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শেখ ফজলে শামস বলেন, একজন যোগ্য নেতার হাত ধরে একটা নতুন সমাজ বিনির্মিত হতে পারে। তাই সৎ, সাহসী ও সহানুভূতিশীল নেতৃত্বচর্চার বিকল্প নেই। জাতির উত্থান–পতন অনেকাংশে নির্ভর করে সঠিক নেতৃত্বের ওপর। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু তার দৃষ্টান্ত উদাহরণ। শেখ ফজলে শামস আরও বলেন, সংগ্রামের মাধ্যমে পৃথিবীর অন্যতম সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে শেখ হা্সিনা আজ সর্বজনস্বীকৃত। তিনি সাফল্যের কখনো শর্টকাট বোঝেননি। তাঁর পিতার হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত বিচার আইনে বিশেষ ট্রাইব্যুনালে করতে পারতেন। তিনি তা করেননি। আপস করলে বিদেশি প্রভুদের সঙ্গে আপস করে ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসতে পারতেন।
জেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুল আহসান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান। বিশেষ অতিথি বরগুনা–১ আসনের সাংসদ ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, সংরক্ষিত আসনের সাংসদ সুলতানা নাদিরা, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার, সাংসদ মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বদিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মো. মাজহারুল ইসলাম।
দলীয় সূত্র জানায়, জেলা যুবলীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয় ২০০৫ সালে। সম্মেলনে কামরুল আহসানকে সভাপতি ও সাহাবুদ্দিন সাবুকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হয়।
দীর্ঘ ১৬ বছর পর জেলা যুবলীগের সম্মেলন ঘিরে নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন। ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। সম্মেলনে সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকার নেতা-কর্মীরা রংবেরঙের পোশাক পরে বাদ্যযন্ত্র নিয়ে আসতে থাকেন। সম্মেলন শুরুর আগেই পুরো টাউন হল মাঠ আগত নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি এবং স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। বিকেল পাঁচটায় সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়েছে। সন্ধ্যার পর জেলা শিল্পকলা মিলনায়তনে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন বসে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.