উদ্বোধন হতে যাচ্ছে দেশের সর্বাধুনিক কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

0

৭২টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুটি আন্তর্জাতিক হওয়ায় এখানে দেশী-বিদেশী কর্মকর্তা এবং পর্যটকও আসা যাওয়া করেন। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের যাতায়তকে সহজ ও আরামদায়ক করতে বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক ও আধুনিকায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর নির্দেশনা মতে কাজ করছেন বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এখানে বিভিন্ন স্থাপনার কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত সময়ে কাজ শেষ করা হলে দেশী বিদেশী পর্যটকরা সহজে কক্সবাজারে আসতে পারবে। এতে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড আরো গতিশীল হবে।

বিমানবন্দর রানওয়ে সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. মাসুদুল হাসান বলেন, গেল ১১ আগস্ট রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৯ হাজার ফুট রানওয়ের সাথে যোগ হবে আরো ১৭’শ ফুট। ইতিমধ্যে আড়াই পারসেন্ট কাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সিওয়াইডাবিøউইবি’ এবং ‘সিসিইসিসি’। এক হাজার ৫৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্ধারিত প্রকল্পটি শেষ করতে সময় লাগবে আগামি ৩৩ মাস।

সূত্র জানায়, সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় আকাশপথে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করতে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এটি বাস্তবায়ন করছে বেবিচক। বিমানবন্দরের বর্তমান ৯ হাজার ফুট দীর্ঘ রানওয়েকে মহেশখালী চ্যানেলের দিকে আরও এক হাজার ৭০০ ফুট সম্প্রসারিত করে মোট ১০ হাজার ৭০০ ফুটে উন্নীত করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্প্রসারিত হতে যাওয়া ১৭শ’ ফুট রানওয়ের মধ্যে ১৩শ’ ফুটই থাকবে সাগরের পানির মধ্যে। দেশে এই প্রথমবারের মতো সমুদ্রের ভেতরে বøক তৈরি করে রানওয়ে সম্প্রসারিত করা হবে। দেশে এ প্রথম কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে এ প্রক্রিয়ায়। কক্সবাজার বিমানবন্দরের মহেশখালী চ্যানেলের দিকে ল্যান্ড রেক্লেমেশন প্রক্রিয়ায় সম্প্রসারিত হবে এ রানওয়ে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক আল-মামুন ফারুক জানান, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করে ইতোমধ্যে ৬ হাজার ৭৭৫ ফুট থেকে বাড়িয়ে ৯ হাজার ফিট দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ ১২০ ফিট থেকে ২০০ ফিটে উন্নীতকরণ করা হয়েছে। ২০১৭ সালে সম্প্রসারিত রানওয়েতে বোয়িং ৭৩৭ বিমানে করে এসে উড়োজাহাজ উড্ডয়ন ও অবতরণে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে সময়ই এই বিমানবন্দরের রানওয়ে ৯ হাজার ফিট থেকে ১২ হাজার ফিটে উন্নীতকরণের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই নির্দেশনা মোতাবেক ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ‘কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়।

বেবিচক সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণে কাজ দেয়া হয়েছে চীনা প্রতিষ্ঠানকে। সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে কক্সবাজার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দফতরে বেবিচক কর্তৃপক্ষ ও চাংজিয়াং ইচাং ওয়াটারওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যুরো (সিওয়াইডবিউইবি)- চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কর্পোরেশন (সিসিইসিসি)- জেভি’র মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন প্রদান করেন। প্রকল্পের আওতায় রানওয়ে ছাড়াও ৫ হাজার ১ শ’ ৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে কক্সবাজার বিমানবন্দরে নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণ ও এয়ারফিল্ড গ্রাউন্ড লাইটিং সিস্টেম স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।

এদিকে পর্যটন শিল্পের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের কাজ শেষ হলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় পর্যটকদের ভোগান্তি যেমন কমবে তেমনি কমে আসবে যাতায়ত খরচও। বিদেশী পর্যটকদের কক্সবাজারের প্রতি আকৃষ্ট করা সম্ভব বলে দেশের পর্যটন শিল্প আরো বিকাশ লাভ করবে।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স’র সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত এবং রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে কক্সবাজার এখন বিশ্ব পরিচিত। এসময়ে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর খুবই জরুরী। বিমানবন্দর চালু হলে পর্যটন শিল্প আরো বিকশিত হবে। একই সাথে কক্সবাজারে ইকুনোমিক জোন বাস্তবায়ন হলে এখানে আসবে ব্যবসায়ীরাও। এতে আমরা অর্থনৈতিক দিক থেকে আরো এগিয়ে যেতে পারবো।

বিমানবন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদনী হাজারি বলেন, আন্তর্জতিক বিমানবন্দর হলে বিশ্বের যেকোন প্রান্ত থেকে উড়োজাহাজগুলো এখানে অবতরণ করবে। এতে বিদেশে অবস্থানরত কক্সবাজারের শ্রমজীবী মানুষগুলো সরাসরি কক্সবাজারে আসতে পারলে হয়রানি থেকে বাঁচবে।

তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইস পরিচালক আবদুল কাদের মিশু বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম অখন্ড সৈকতের শহর কক্সবাজারকে বিশ^মানের করে সাজাতে পারলে সমৃদ্ধ হবে পর্যটন শিল্প। এর একটি অন্যতম অনুসঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। পর্যটন শিল্প বিকাশে এর গুরুত্ব অত্যধিক। এসব বাস্তবায়নে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সহযোগিতাও নেয়া যায়।

Leave A Reply

Your email address will not be published.